আসাদুর রহমান।। শার্শা উপজেলার নাভারণ- বুরুজবাগান ভুমি অফিসের অফিস-সহায়কের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার ভুমি মালিকরা। ভুমি মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সময়মত কাজ না করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে অফিস- সহায়কের বিরুদ্ধে ।
অফিস সহকারি কর্মকর্তার ভুমিকায় অভিনয় করে অফিস- সহায়ক আনছার আলী ভুমি মালিকদের সাথে নানারকম ছল-চাতুরি করে একদিকে খেটে খাওয়া ভুমি মালিকদের যেমন অর্থ ধ্বংস করছে অন্য দিকে জমির কাগজ-পত্র সংশোধনের নামে হয়রানি করছে বছরের পর বছর। আবার জমির কাগজ-পত্র সংশোধনের নামে ভুমি মালিকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি বা খরচ ছাড়াও অতিরিক্ত তিন-চার গুন বেশী টাকা আদায় করছে যা কাজের আগেই আনছার আলীর হাতে তুলে দিতে হয়।
জমির কাগজ-পত্র সংশোধনের নামে ভুমি মালিকদের কাছ থেকে ১৫ বা ৩০ দিনের সময় চুক্তি করে নিয়ে জমির কাগজ-পত্র, টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে ছয় মাস, এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভুমি মালিকদের হয়রানি থামে না। জমির কাগজ-পত্র, টাকা-পয়সা ফেরত চাইলে নানারকম টাল-বাহানা করতে থাকে আনছার আলী । উপজেলার সুবর্ণখালি গ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে ওষুধ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম এমনই অভিযোগ করেছেন নাভারণ-বুরুজবাগান ভুমি অফিসের অফিস- সহায়ক আনছার আলীর বিরুদ্ধে। রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার জমির নামপত্তনের জন্য নাভারণ-বুরুজবাগান ভুমি অফিসে গেলে অফিস- সহায়ক আনছার আলী তিনটি দলিলের নামপত্তন খরচের জন্য ১৪ হাজার টাকায় ৩০ দিনের মধ্যে নামপত্তন করিয়ে দিবে বলে ১১ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে নেয়।
কিন্তু ভুমি আইনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোন জমির একটি দলিলের নামপত্তন খরচ মাত্র ১ হাজার ১শত ৫০ টাকা। ৩০ দিন পার হওয়ার পর জমির নামপত্তনের কাগজ-পত্র চাইলে এখনও কাজ শেষ হয়নি বলে রফিকুলের সাথে নানারকম টাল-বাহানা করতে থাকে আনছার আলী । এইভাবে ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও আনছার আলী আমার জমির নামপত্তনের কাগজ-পত্র, টাকা-পয়সা ফেরত না দিয়ে নানারকম ছল-চাতুরী করতে থাকে। অবশেষে স্থানীয় জনৈক সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে ১০ হাজার ৭ শত টাকা ফেরত পাওয়া গেলেও বাকি ৩ শত টাকা ও তার কাছে জমা দেয়া কাগজ-পত্র ফেরত দেয়নি আনছার আলী। একই অভিযোগ করেছেন সুবর্ণখালি গ্রামের মৃত নবাব আলীর বড় ছেলে সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, জমির নামপত্তনের একটি দলিলের জন্য ৫ হাজার টাকা ও কাগজ-পত্র জমা নিয়ে এক বছরেও নামপত্তনের কাগজ বা ৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়নি আনছার আলী। ভুমি অফিসের অফিস- সহায়ক আনছার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওষুধ ব্যবসায়ী রফিকুলের কাছ থেকে ৩ টি দলিলের নাম পত্তনের জন্য ১৪ হাজার টাকার চুক্তিতে ১১ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছি। রফিকুল ইসলামের জমির নামপত্তনের জন্য উপজেলা ভুমি অফিসে আবেদন জমা দেয়ার পর তা সহকারি কমিশনার (ভুমি) খারিজ করে দিয়েছেন।
তবে রফিকুলকে হয়রানি দেয়া আমার ভুল হয়েছে, এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। সিরাজুল ইসলামের সাথে একইভাবে টালবাহানা করার কথাও স্বীকার করেছেন আনছার আলী। নাভারণ-বুরুজবাগান ভুমি অফিসের ভুমি সহকারি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খায়রুজ্জামান বলেন, অফিস সহায়ক আনছার আলীর বিরুদ্ধে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির বহু অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমার উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, নাভারণ-বুরুজবাগান ভুমি অফিসের অফিস সহায়ক আনছার আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/শিরিন আলম